বিএনপিতে নাম লেখাতে জুড়ীতে দৌড়ঝাঁপ আওয়ামী দোসর হাবিবের

April 5, 2025,

স্টাফ রিপোর্টার : ৫ আগষ্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পতনের পর সারাদেশে রং বদলাতে শুরু করে আওয়ামী দোসররা। বিভিন্ন কায়দায় তারা বিএনপি বা জামায়াতের উপর ভর করে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে।  জুড়ীতে এমনই এক চরিত্রের নাম হাবিবুর রহমান হাবিব। সৌদি আরব প্রবাসী হাবিব গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আগে দেশে ফিরে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। পরে অজ্ঞাত কারণে তিনি আর সৌদি আরব ফেরত যাননি। শুনা যায় কোন এক কঠোর আইনী বিধি নিষেধের আওতায় পড়ে সৌদি আরব ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন চতুর হাবিব। দেশে স্থায়ীভাবে থাকতে হবে বুঝতে পেরে হাবিব স্থানীয় হাকালুকি জলমহালসহ বিভিন্ন ব্যবসায় মনোনিবেশ করেন। সে সময় জেলা প্রশাসকসহ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী স্বৈরাচারী শেখ হাসিনাকেও নিয়মিত হাকালুকি হাওরের মাছ পাঠাতেন হাবিব।  বিষয়টি তিনি গর্ব করে তখন গণমাধ্যম কর্মীদের জানাতেন।

৫ আগষ্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যাবার পর জামায়াতের পাল্লা ভারী মনে করে জুড়ী উপজেলা জামায়াতের বিভিন্ন প্রোগ্রামে যোগ দিয়ে নিজেকে জামায়াত নেতা হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করেন। আলাদা সম্পর্ক গড়ে তোলেন জামায়াত নেতৃবৃন্দের সাথে। জামায়াতের সাথে হাবিবের সখ্যতা এবং উপজেলা জামায়াতের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁর যোগ দেয়ার ছবি ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।  যা নিয়ে নেটিজেনরা ব্যাপক ট্রল করছে।

এদিকে, কয়েক মাস যেতে না যেতেই চতুর হাবিব নিজেকে সৌদি আরব বিএনপি’র কথিত নেতা উল্লেখ করে বিএনপিতে নাম লেখাতে মরিয়া হয়ে ওঠে। নিজেকে জুড়ী উপজেলা বিএনপির কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করতে শুরু করে দৌড়ঝাঁপ। উপজেলা থেকে জেলা পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সাথে যোগাযোগ করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে। পরে এক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকের নাম ভাঙিয়ে আর নিজেকে তাঁর ঘনিষ্ঠ মিত্র দাবি করে (জুড়ী ও বড়লেখা) সংসদীয় আসনে ২০১৮ সালে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠুকে ম্যানেজ করতে সক্ষম হন। যার ফলশ্রুতিতে সম্প্রতি উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের ৮ নং জাঙ্গীরাই ওয়ার্ডে

আহ্বায়কের একক স্বাক্ষরে তিনি সদস্য পদ লাভ করেন।

হাবিবুর রহমান হাবিব ৮ নং জাঙ্গীরাই ওয়ার্ডের আহ্বায়ক রেজান আলীর একক স্বাক্ষরে সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় উপজেলা জুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। এ নিয়ে নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।  দলীয় গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ৫নং জায়ফরনগর ইউনিয়ন শাখার আহ্বায়ক কর্তৃক একক স্বাক্ষরে ৮নং জাঙ্গীরাই ওয়ার্ড শাখা কমিটি ঘোষণা করায় তা বাতিলের পাশাপাশি ৫নং জায়ফরনগর ইউনিয়ন শাখা আহ্বায়ক কমিটিরও যাবতীয় কার্যক্রম স্থগিত করে জুড়ী উপজেলা বিএনপি। গত ২৫ মার্চ আহ্বায়ক ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। যদিও আহ্বায়ক ডাঃ মোঃ মোস্তাকিম হোসেন বাবুল প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দেয়া স্বাক্ষর তাঁর নিজের নয় বলে দাবি করেন। ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা জানান, ৫ আগষ্টের পূর্বে হাবিব আওয়ামী দোসর হিসেবে কাজ করেছেন। আওয়ামী নেতাদের সাথে উঠা-বসা, আওয়ামীলীগের নেতাদের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য আর আওয়ামীলীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অর্থায়নের মাধ্যমে তিনি হয়ে উঠেছিলেন আওয়ামীলীগের প্রিয়পাত্র।  প্রায়ই নিজের বাড়িতে বিশাল আয়োজন করে দাওয়াত খাওয়াতেন আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দকে।  তাই এমন আওয়ামী দোসরের পুনর্বাসন মেনে নিতে পারছেন না নেতাকর্মীরা। তারা অবিলম্বে দলীয় হাইকমান্ডকে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপের আহবান জানান।

উপজেলার সদর জায়ফরনগর ইউনিয়ন তথা পুরো উপজেলায় বিভাজনের রাজনীতি তৈরি করে দলীয় সম্প্রীতি নষ্ট করছেন হাবিব। এতে দলের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে জুড়ী শিশু পার্কের শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন হাবিব।  সেখানে যাদেরকে সাথে নিয়ে তিনি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তারা পতিত স্বৈরাচারের দোসর ।

কার ইন্ধনে ও কোন ক্ষমতা বলে দলের মধ্যে পতিত স্বৈরাচারের দোসর ও জামায়াত নেতাকে ঠাঁই দেয়া হচ্ছে তা জুড়ী বিএনপির প্রশ্ন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সাধারণ নেতাকর্মীরা জানান, যেখানে দ্বৈত স্বাক্ষরে সকল কমিটি অনুমোদনের নির্দেশনা রয়েছে সেখানে কার স্বার্থে একক স্বাক্ষরে হাবিবের মতো স্বৈরাচারের দোসরকে দলে অন্তর্ভুক্তির যে পায়তারা চলছে তার সাধারণ নেতাকর্মীরা মেনে নেবে না।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com