প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, লীলানাগ : আলতাফ হোসেন প্রসঙ্গ-প্রাসঙ্গিকতা : কিছু কথা

মুজিবুর রহমান মুজিব : সংবাদ পত্র পৃন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া আধুনিক বিশ্বের কল্যানকামী রাষ্ট্রে রাষ্ট্রের “চতুর্থ স্থম্ভ হিসাবে” খ্যাত ও স্বীকৃত। হাল আমলে মুদ্রন শিল্পে কম্পিউটার এর অত্যাধুনিকতা এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া ভূবনের পরিপক্ষতা ও পরিপূর্নতা মুদ্রন শিল্পের ভূবনে মান মর্যাদা সৌকর্য্য ও স্যেন্দর্য্য বৃদ্ধি করেছে। সংবাদ পত্র এখন মানব সভ্যতা ও সংস্কৃতির সাথে অঙ্গাঁঅঙ্গিঁ ভাবে জড়িয়ে গেছে। অতি সম্প্রতি ছাত্র জনতার বৈষম্য বিরোধী কোটা সংস্কার আন্দোলনে যেমনি আমাদের পৃন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া কৃতিত্বপূর্ন অবদান রেখেছিলেন ঠিকতেমনি পাঁচই আগষ্টের ছাত্র গন অভ্যোত্থানে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার পলায়ন ভরতে আশ্রয় গ্রহনের পর আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যমতের অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়ে পাঁচ আগষ্টের বিপ্লবি চেতনার আলোকে নতুন বাংলাদেশ গঠনের আলোকে, লক্ষে আমাদের মিডিয়া ভূবন ইতিবাচক ভূমিকা ও অবদান রাখছেন। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা মুক্ত বাংলাদেশে, দেশে এসে বিশিষ্ট জীবন ঘনিষ্ট সাংবাদিক মজলুম সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান তাঁরও আমাদের প্রিয় সংবাদ পত্র “আমার দেশ” পুনঃ প্রকাশ শুরু করেন। স্বল্প সময়ের মধ্যে দৈনিক আমার দেশ পাঠক প্রিয়তা পায়। ষাটের দশক থেকে সংবাদ পত্র শিল্পের সেবায় আছি। সাংবাদিকতায় সম্পাদনায় প্রকাশনায়ও। শিক্ষাজীবন শেষে, স্বাধীনতা উত্তর কালে একজন স্বপ্নবাজ মুক্তি সেনা হিসাবে মনের মত করে নিজের দেশকে সাজাতে সরকারি চাকরি কিংবা ব্যবসা বানিজ্যে যাইনি। তেয়াত্তোর সালে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্পেশাল ব্যাচ এ প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকা স্বত্বেও যাইনি ভারতে প্রশিক্ষন প্রাপ্ত একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে প্রবাসী মুজিব নগর সরকার এর “অফিসার ছিলাম” তেয়াত্তোর বি,সি,এস প্রথম ব্যাচ এ সরকারি চাকরিতে যাইনি, মুক্তিযোদ্ধা কোটার, কোটাগত সুযোগ নেই নি। পেশা হিসাবে আমার অধ্যাপনাও সাংবাদিকতা পসন্দনীয়। শুরুতে এই কর্ম ও পেশায় যোগ দিয়েছিলামও। প্রাচ্যেরঅক্সফোর্ড ঐতিহ্যের গৌরবের, ঐতিহ্য বাহী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম ষাটেরদশকে। তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর ভাইস চ্যেন্সেলার ছিলেন বিচারপতি আবু সঈদ চৌধুরী, যিনি একাত্তোরে আমাদের মহানমুক্তিযুদ্ধে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের স্বপক্ষে জনমত সংগ্রহে সংঘটক হিসাবে ঐতিহাসিক অবদন রেখেছিলেন। শিশু রাষ্ট্র পাকিস্তানে, সাতচল্লিশ সালের পর থেকেই পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়াশীল ক্ষমতাসীন শাসক গোষ্টি ডি.পি.আর, এবডো-প্রডো জাতীয় গনবিরোধী আইন জারী করে নবগঠিত পাকিস্তানে গনমুখী প্রগতিশীল রাজনীতি বিকশিত হতে দেয় নি, ফলত ছাত্র সমাজ বিশেষতঃকলেজ বিশ্ব বিদ্যালয় এর শিক্ষিত সংগ্রামী ছাত্র সমাজকে শিক্ষা ও গনঅধিকারের আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিতে হয়েছে এ ব্যাপারে দেশের সর্বপ্রাচীন ও সর্ব্বোচ্য বিদ্যাপীট হিসাবে ঐতিহ্যবাহী ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়-বিশ্ব বিদ্যালয়ের সংগ্রামী ছাত্র সমাজকে নেতৃত্ব দিতে হয়েছে। পাকিস্তানী শাসনামলের সম্পূর্ন সময় পাঞ্জাবী উচ্চাভিলাসী ও ক্ষমতা লিপ্সু সামরীক জান্টা আমলাতন্ত্র-নীতিহীন দূর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদদের, বাংলা ও বাংলাদেশীদের প্রতি বৈষম্য মূলক বিমাতা সূলভ আচরন এর বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয় এর সংগ্রামী ছাত্র সমাজ এর আন্দোলন সংগ্রামের কথা ইতিহাসের অংশ। একাত্তোরের মহান মুক্তিযুদ্ধে ঐতিহ্যবাহী ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয় এর সংগ্রামী ছাত্র সমাজ এর আত্মত্যাগ ও আত্ব বলিদান এর উজ্জল ইতিহাস আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে স্বর্নাক্ষরে লিপিবদ্ধ। গত ৪ঠা মার্চ এর দৈনিক আমার দেশ এর অষ্টম পৃষ্টায় “ক্যাম্পাস” কলামে“প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়” শিরোনামে সাংবাদিক জাকের হোসেন এর একটি তথ্য ও তত্ববহুল প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। দৈনিক আমার দেশ এর একজন গ্রাহক-পাঠক এবং ঐতিহ্যবাহী ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয় এর একজন প্রাক্তন ছাত্র হিসাবে সম্পাদক সাহেবকে আন্তরিক অভিনন্দন জ্ঞাপন করছি। শিক্ষা, জ্ঞান ও ইতিহাস ভিত্তিক এই জাতীয় রচনায় অসম্পূর্নতা, যদকিঞ্চিত তথ্য-তত্বগত বিভ্রান্তি থাকতে পারে। একজননগন্য পাঠক হিসাবে বাদ প্রতিবাদ নয় বরংসম্মানিত সম্পাদক, তথ্যানুসন্ধানী লেখক গবেষক কে এই জাতীয় শিক্ষাও জ্ঞান বিষয়ক প্রতিবেদন, প্রকাশ ও রচনার জন্য ধন্যবাদ সাধুবাদ পাবার হকদার বটে। আমি একজন পাঠক হিসাবে আমার পাঠ প্রতিক্রিয়া অভিমত মতামত এবং আমার জ্ঞান বিশ্বাস মতে কিঞ্চত সংযোজনী পেশ করছি। ঐতিহাসিক ও তথ্যগত ভাবে সত্য যে, লীলানাগ ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগে প্রথম ছাত্রী ছিলেন। তিনি দ্বিতীয় বিভাগে মাষ্ট্রার্স ডিগ্রী অর্জন করেন। লীলা নাগ এর পিতৃভূমি মৌলভীবাজার জেলাধীন রাজনগর উপজেলা অন্তর্গত ঐতিহ্যবাহী গ্রাম পাঁচ গায়। শ্রীমতি নাগের পিতা পিরিশ চন্দ্র নাগ বৃটিশ ভারতের ডেপুটি ম্যাজিষ্ট্রেট ছিলেন পিতার কর্মস্থলে তার জন্ম হলেও আদিতে বৃহত্তর সিলেটের কৃতিকন্যা তিনি। বিভিন্ন তথ্য মতে বিপ্লবি অনিল চন্দ্র রায় এর সঙ্গেঁ পরিনয় সূত্রে আবদ্ধ হয়ে তিনি লীলাবতি রায় হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন। অগ্নি যুগের অগ্নি কন্যা লীলানাগ “অনুশীলন” যুগান্তর এর মত বিপ্লবী দলের সঙ্গেঁ ভারতীয় স্বাধীনতার স্বপক্ষে কাজ করেন। সর্ব ভারতের জাতীয় বীর বিপ্লবী সুভাষ চন্দ্র বসুর সঙ্গেঁ ও কাজ করেন মিসেস রায়। শিক্ষানুরাগি লীলানাগ সেই যুগে সাংবাদিকতা ও সংবাদ পত্র সেবায় ও অবদান রাখেন। তিনি মাসিক জয়শ্রীর প্রতিষ্টাতা সম্পাদক ছিলেন। তাঁর উজ্জল স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য বর্তমান প্রজন্ম ও অতিশয় উৎসাহী। বিশিষ্ট আইন জীবী, ধর্মকর্ম ও সমাজ সেবক বাবু রমাকান্ত দাশ গুপ্তের নেতৃত্বে লীলানাগ স্মৃতি পরিষদ গঠিত হয়েছে।ইতিপূর্বে জেলা সদরে স্মৃতি পরিষেদর সৌজন্যে লীলানাগ এর কর্ম ও জীবন সংক্রান্ত একটি তথ্য চিত্র প্রদর্শিত হয়েছে। বিপ্লবী লীলা নাগ এর পাঁচ গায়ের পৈত্রিক বাড়িটি “ভেষ্টেড প্রপার্টি” হিসাবে আছে। এই বাড়িতে সরকারি ভাবে পাঠাগার পর্যটন কেন্দ্র প্রতিষ্টা করা যেতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজী বিভাগে প্রথম ব্যাচ এর প্রথম শ্রেনীতে প্রথম হয়েছিলেন এই জেলাধীন কুলাউড়ার কৃতি সন্তান আলতাফ হোসেন। তিনি উপমহাদেশের প্রখ্যাত ইংরেজী দৈনিক “ডন” এর সম্পাদক ছিলেন। মরহুম আলতাফ হোসেন বৃটিশ বিরোধী পাকিস্তান আন্দোলনের নেতা এবং পাকিস্তানী জাতির জনক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ঘনিষ্ট সহচর ও পাকিস্তানী মন্ত্রী সভার সদস্য ছিলেন। রচনায় এ প্রসঙ্গঁটি আসে নি। প্রতিবেদনের “ঐতিহাসিক স্থান” শিরোনামে প্রেম ও দ্রোহের কবি কাজি নজরুল ইসলাম এর কবর, কলাভবনের সামনে শিখ ধর্মাবলাম্বিদের গুরু দোয়ারা, আন্দোলন সংগ্রামের প্রানকেন্দ্র অনেক জনের অনেক স্মৃতি বিজড়িত ইকবাল হল যা বর্তমানে সার্জেন্ট জহুরুল হক এর নামে আছে তা থাকলে ভাল হত। তবু ও এত সব ছোট খাটো অসম্পূর্নতা বাদ দিলে জাকের হোসেনের “প্রাচ্যের অক্সফোর্ড, ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়” একটি প্রাসঙ্গিঁক রচনা। পরিশেষে না বল্লেই নয়, ঐতিহ্যবাহীঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয় বিগত আওয়ামী স্বৈর শাসনামলে দলীয় করন ও দূর্নীতিতে কলংকের কালিমা লেগেছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় অযোগ্য দলান্ধ দলবাজদেরকে গুরুত্ব পূর্ন পদে বসিয়ে গৌরবময় ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ম্লান হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশের কলংক, ঘুষ খোর, দূর্নীতিবাজ সাবেক আইজপি অযোগ্য বেনজির আহমদকেডক্টরেট ডিগ্রী দিয়েছে এই ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়, যার উপযুক্ত তিনি ছিলেন না। মেধাহীন পুলিশ প্রশাসক বেনজির আহমদ শুধু ফরিদপুরি এবং প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থা ভাজন হওয়ার সুবাদে এই সম্মান জনক ডিগ্রীটি বাগিয়ে নিয়ে ছিলেন যে খানে তাঁর ভর্তিরই যোগ্যতা ছিল না। ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের আরেক আওয়ামী অধ্যাপক, জবির সাবেক ভি,সি ডক্টর মিজানুর রহমান নিজেই এই সত্য স্বীকার করেছেন। যাই হউক পাঁচ আগষ্ট্রের ছাত্র জনতার মহা বিপ্লবের পর আমাদের সকলের দায়িত্ব নৈতিক কর্তব্য যাবতীয় আওয়ামী আবর্জনা সাফ সুতরা করে বৈষম্য হীন সুখী সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গঠন করা, জুলাই বিপ্লবের শহীদানের উজ্জল স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা, তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করা।
[ষাটের দশকের সাংবাদিক। মুক্তিযোদ্ধা। এডভোকেট হাই কোর্ট। সভাপতি, শহীদ জিয়া স্মৃতি পাঠাগার মৌলভীবাজার জেলা।]
মন্তব্য করুন