যাদের চিন্তা চেতনা ও কর্ম মৌলভীবাজার, সিলেট ও বাংলাদেশতথা ভারতীয় উপমহাদেরশের পট পরিবর্তনের ধারক

বিকুল চক্রবর্তী॥ নতুন প্রজন্মরা কি জানে মৌলভীবাজারের সকল ঐতিহাসিক ব্যক্তি সম্পর্কে ? যুগে যুগে এ জেলায় বহু গুনি মানুষের জন্মহয়েছে। যাদের বদৌলতে ধন্য হয়েছি আমরা। কিন্তু আমরা তাঁদের মনে রাখতে পারিনি। বর্তমান যান্ত্রিক যুগে আমরাও প্রায় যান্ত্রিক। অতচ সে সকল গুনি ব্যাক্তি যারা আমাদের মুল প্রেরনা। যাদের কারনে, আজকে আমরা সামাজিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির পথে। এছাড়াও মায়ের ভাষায় কথা বলা, স্বাধীন ভাবে পথ চলা। সংস্কৃতি চর্চা, নারী আন্দোলন তথা অন্যায়ে প্রতিবাদী হওয়া। বলা চলে একটি সমৃদ্ধ জাতী হিসেবে মেধা মনন অর্জন ও সামনের দিকে এগিয়ে চলার মুল প্রেরণাই হলেন তারা।
সে সকল গুনি ব্যাক্তিরা জন্মগ্রহন করেন মৌলভীবাজারে কিন্তু নেতৃত্ব দিয়েছেন পুরো ভারত উপমহাদেশের। তাদের কেউ ধর্ম প্রচারক, কেউ শিক্ষা বিস্তার, কেউ সংগীতে, কেউ নারী আন্দোলনে, কেউ কৃষক আন্দোলনে, কেউ বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন, কেউ সাংবাদিকতায়, কেউ সিলেট বিভাগের প্রথম সাংবাদিকের খ্যাতি অর্জন, কেউ সিলেট বিভাগের প্রথম বিচারক, কেউ সিলেট বিভাগের প্রথম পত্রিকার প্রকাশক, কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–য়া প্রথম নারী ছাত্রী, কেউ মৌলভীবাজার শহরের প্রতিষ্টাতা। এই রকম অসংখ্য গুনি ব্যক্তিদের একেক জনকে নিয়ে হতে পারে এক একেটি বিশাল আকৃতির বই। সময়ের আর্বতে তাদের ইতিহাস প্রায় হারাতে বসেছি আমরা। তবে এখনও সময় আছে এই গুনি ব্যাক্তিদের তথ্য আরও ব্যপক ভাবে সংগ্রহ করে সংরক্ষিত করতে পারি আগামী প্রজন্মের মেধা মনন বিকাশের জন্য ও তাদের আত্মত্যাগী করার জন্য। তবে আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি যারা সিলেট ও মৌলভীবাজারের ইতিহাস মুলক বইয়ে তাদের কথা তুলে ধরেছেন। যারা মৌলভীবাজারের এই একঝাঁক নক্ষত্র সম্পর্কে অবগত নন তাদের জন্য সংক্ষিপ্ত আকারে এক নজরে মৌলভীবাজারের ক্ষণ জন্মাদের কয়কজনের তথ্য তুলে ধরছি।
হজরত শাহ মোস্তফা(রঃ)
ধর্ম প্রচারক হযরত শাহ মোস্তফা (র:) হজরত শাহ জালাল(রঃ) এর অন্যতম সহযোগী ছিলেন। জনশ্রুত রয়েছে তিনি ৭০০ জন সহযোগী নিয়ে ধর্ম প্রচারের জন্য এদেশে আসেন। এখানেই বিয়ে করেন এবং বংশ বিস্তার করেন। তিনি মৌলভীবাজার বাসীর কাছে ঘোড় সওয়ার চাবুক মার নামেও পরিচিত ছিলেন। তাঁর নামে মৌলভীবাজার বেরিরপাড় থেকে কোট রোডের সংযোগ সড়কের নাম করণ করা হয়েছে। মৌলভীবাজার শহরে তাঁর মাজার রয়েছে। তাঁর এই মাজারেরের পাশে প্রতিবছর মেলা বসে এবং প্রতিদিন তার মাজারে শত শত ধর্মপ্রাণ মানুষ যাতায়াত করেন।
উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ কারুশিল্পী শ্রী জনার্দন
উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ কারুশিল্পী শ্রী জনার্দন কর্মকার মৌলভীবাজার জেলার কৃতি সন্তান। তিনি ১৫৭৫ সালে রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। তিনি ১৬৩৭ সালে মুর্শিদাবাদের নবাবের জন্য জাহান কোষ নামে একটি তোপ তৈরি করেন । সপ্তদশ শতকে ঢাকা গিয়ে বিবি মরিয়ম ও কালে জমজম নামে দুটি কামান তৈরি করেন। বর্তমানে ওসমানী উদ্যানের সামনে ঐতিহাসিক কামান কালেজমজমটি শোভা পাচ্ছে। তিনি ১৬৪৫ সালে পরলোক গমন করেন।
মৌলভীবাজার জেলার প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ কুদরত উল্লাহ
ইতিহাসে সরব রয়েছে মৌলভীবাজার এর প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ কুদরত উল্লাহ নাম। মৌলভীবাজারের পশ্চিম বাজার তাঁর প্রতিষ্ঠিত। ১৭৯৩ সালে সৈয়দ কুদরত উল্লাহ মুন্সেফ নিয়োজিত হন। তিনি ১৭৫০ সালে মৌলভীবাজার জেলার গোবিন্দশ্রী গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। তার পিতার নাম সৈয়দ হূরমত উল্লাহ।
মধ্য যুগের শ্রেষ্ঠ কবি সৈয়দ শাহনূর
মধ্য যুগের শ্রেষ্ট কবি হিসেবে খ্যাত সৈয়দ শাহনূর। তিনি ১৭৩০ সালে রাজনগর উপজেলার ঘড়গাঁও গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। তার পিতা নাম সৈয়দ নূর। ১৮১৯ সালে “নূর নছিহত” নামক সুবৃহৎ পুথি রচনা করেন। পুথির পৃষ্টা সংখ্যা ৩০২, গানের সংখ্যা ১০৮, ধাঁধাঁর সংখ্যা ৪১। এ ছাড়াও তার আরও উল্লেখযোগ্য বই হলো রাগনূর, সাত কন্যার খান। তিনি ১৮৫৫ মারা গেলে নবীগঞ্জ উপজেলার জালালসাপ গ্রামে তাকে সমাহিত করা হয়।
সিলেট বিভাগের প্রথম ইতিহাস লেখক কাজী মুহম্মদ আহমদ
লেখক কাজী মুহম্মদ আহমদ সিলেট বিভাগের প্রথম ইতিহাস লিখে সাহিত্য অঙ্গনে বিশাল একটি জায়গা দখল করে রয়েছেন। এই কৃতী পুরুষ ১৮৩০ সালে মৌলভীবাজার জেলার বুধপাশা গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। তিনি ১৮৮১ সালে জেলার কাজী নিযুক্ত হন৷ আঞ্জুমানে ইসলামিয়া স্থাপন করে এর সেক্রেটারীর দায়িত্ব পালন করেন৷ ১৮৮৫ সালে বাংলা ভাষায় সিলেটের গ্রন্থ শ্রীহট্ট দর্পন রচনা করেন।
আশরাফ হোসেন-সাহিত্য রতœ
সিলেট বিভাগের লোক সাহিত্যের পথিকৃত আশরাফ হোসেন-সাহিত্য রতœ ১৮৯২ সালে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। তার পিতার নাম মুন্সী জওয়াদ উল্লাহ। তাঁর সংগৃহীত মরমী গানের মধ্যে রয়েছে শাহ হাজির আলির হাজিরতরান এবং সাধক কবি রাধারমনের রাধারমন সংগীত। তিনি ১৯১৮ সালে স্বগ্রামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে শিক্ষকতা শুরু করেন এবং ১৯২২ সালে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিযুক্ত হন। ওই বছরই তিনি শিলচর নর্মাল স্কুল থেকে গুরু ট্রেনিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
এর আগে ১৯১৮ সাল থেকে আশরাফ হোসেনের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। আশরাফ হোসেনের মৌলিক গ্রন্থ ১২টি, লোকসাহিত্যবিষয়ক সম্পাদিত গ্রন্থ ৩০টি এবং পাঠ্যপুস্তক ১৭টি। মৌলিক রচনার মধ্যে আশরাফ দেওয়ানা, ভূমিকম্পের কবিতা, আদম খাঁ দেওয়ানের গীত উল্লেখযোগ্য। লোকসাহিত্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো দিলকুশ কন্যার বারমাসী, শান্তি কন্যার বারমাসী, লিলাইর বারমাসী, মধুমালার গীত প্রভৃতি। পাঠ্যপুস্তকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মক্তবি বাল্যশিক্ষা, সাহিত্য সুধা, নববিধান ধারাপাত প্রভৃতি। তাঁর রচিত নামকরা গ্রন্থ সিলহটের ইতিহাস, মনিপুরের লড়াই, শাহজালালের কিচ্ছা ইত্যাদি।সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ আশরাফ হোসেন মুর্শিদাবাদ বঙ্গ সাহিত্য মন্ডল কর্তৃক ‘পুরাতত্ত্ববিদ’ (১৯৩৫), নিখিল বঙ্গ সাহিত্য সঙ্ঘ কর্তৃক ‘সাহিত্যরতœ’ ও ‘কাব্যবিনোদ’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘তমঘা-ই-কায়েদে আযম’ (১৯৬৫) উপাধি লাভ করেন। আসাম সরকার তাঁকে সাহিত্য বৃত্তি (১৯৪৩) ও বাংলা একাডেমী আর্থিক সাহায্য প্রদান করে। তিনি ১৯৬৫সালের ২৪ জানুয়ারী মৃত্যু বরণ করেন।
কথা সাহিত্যিক সৈয়দ মুজতবা আলী
বাংলা কথা সাহিত্যের প্রাণ পুরুষ সৈয়দ মুজতবা আলীরও জন্ম আমাদের মৌলভীবাজার জেলায়। তিনি ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজারে জন্ম গ্রহন করেন। তার পিতার নাম খাঁন বাহাদুর সৈয়দ সিকন্দর আলী। তিনি সিলেট বিভাগের প্রথম মুসলমান হিসাবে ১৯৪৯ সালে দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নরসিংহ দাস পুরষ্কার ও ১৯৬১ সালে সুরেশ চন্দ্র স্মৃতি পুরষ্কার লাভ করেন। একই সাথে তিনি ২৯টি গ্রন্থের প্রণেতা। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো দেশে বিদেশে (১৩৫৪), পঞ্চতন্ত্র (১৩৫৯), চাচা কোহিনী (১৩৫৯), ময়ুরকন্ঠী(১৩৫৯) ইত্যাদি। এ ছাড়াও তিনি বহুভাষাবিদ পন্ডিত ছিলেন।১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রয়ারী ঢাকায় ইন্তেকাল করেন। আজিমপুর গোরস্থানে ভাষা শহীদ বরকত ও শফিকের কবরের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
মাওলানা আব্দুর রহমান সিংকাপনী
মাওলানা আব্দুর রহমান সিংকাপনী মৌলভীবাজারের আরও একজন ক্ষনজন্মা পুরুষ। তিনি ১৮৭৮ সালে মৌলভীবাজার সিংকাপন গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। তিনি ১৯২০ সালে নাগপুর নিখিল ভারত কংগ্রেস খেলাফত সম্মেলনে প্রতিনিধি হিসাবে যোগদান করেন। ১৯২১ সালে যোগী ডহর সম্মেলনে বিশেষ ভূমিকা ছিল। তিনি ছিলেন সুলেখক ও বক্তা। ছিলো বিভিন্ন ভাষার উপর দখল। ১৯৬১ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে তিনি ইন্তেকাল করেন৷
সিলেট বিভাগের প্রথম সাংবাদিক গৌরী শংকর ভট্টাচার্য্য তর্কবাগীশ
সাংবাদিক গৌরী শংকর ভট্টাচার্য্য তর্কবাগীশ সিলেট বিভাগের প্রথম সাংবাদিক। ১৭৯৯ সালে মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও গ্রামে তিনি জন্ম গ্রহন করেন। পিতার নাম জগন্নাথ ভট্টাচার্য্য। গুড়গুড়ে হুক্কায় আসক্তির জন্য তাঁকে গুড়গুড়ে ভট্টাচার্য্য বলে ডাকাহত। ১৫ বছর বয়সে গৃহত্যাগ করে তিনি বদ্বীপেযান এবং ন্যায়শাস্ত্র অধ্যয়ন করে তর্কবাগীশ উপাধি লাভ করেন। জ্ঞানান্বেষণ পত্রিকার মাধ্যমে ১৮৩১ সালে সাংবাদিকতা পেশায় আসেন। তিনি অল বেষ্ট নিউজ পেপার ইন কোলকাতা এর সম্পাদক ছিলেন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ সমূহ হল শিশুপাঠ নীতিকথা (১৮৩০), গীতার অনুবাদ প্রথম খন্ড (১৮৩৫), জ্ঞান প্রদীপ প্রথম খন্ড (১৮৪০) ইত্যাদি। তিনি ১৮৫৯ সালের ৫ ফেব্রুয়ারী পরলোক গমন করেন ।
বাহাদুর খেতাব প্রাপ্ত দেওয়ান আব্দুল হামিদ চৌধুরী
মৌলভীবাজার রাজনগরের মনসুর নগর গ্রামের বাসিন্দা সমাজ সেবক ও শিক্ষাবিদ দেওয়ান আব্দুল হামিদ চৌধুরী সমাজ সেবার জন্য খান বাহাদুর খেতাব পান। দীর্ঘ দিন তিনি আসামের এমএলএ ছিলেন। রাজনগর পোর্টিয়াস স্কুলের জন্য জমিদানসহ বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানে সহায়তার হাত প্রসস্ত ছিল। তিনি ১৮৫০ সালে রাজনগর উপজেলার মনসুরনগর গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন।
শিক্ষানুরাগী আলহাজ্জ কেরামত আলী
শিক্ষানুরাগী আলহাজ্জ কেরামত আলী ছিলেন মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার ভানুগাছ এলাকার বাসিন্দা। তার পিতার নাম ছিলো মো: শফাত আলী। তিনি ১৯০১ সালেজেলার কমলগঞ্জ উপজেলার ভানুগাছে জন্ম গ্রহন করেন। তিনি ১৯৪৬ সালে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হিসাবে এম.এল.এ পদে জয়লাভ করেন। ১৯৬৫ সালে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। মৌলভীবাজার কলেজের প্রতিষ্ঠালগ্নে ৭৫,০০০ টাকা এবং শ্রীমঙ্গল কলেজের প্রতিষ্ঠালগ্নে ২৫,০০০ টাকা দান করেন। তিনি ১৯৬৯ সালের ৩ জুন মৃত্যু বরণ করেন।
সিলেট এমসি কলেজের প্রথম মুসলিম ছাত্র আব্দুল খালিক চৌধুরী
সিলেট এমসি কলেজের প্রথম মুসলিম ছাত্র ছিলেন মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বিজলী গ্রামে আব্দুল খালিক চৌধুরী। তার জন্ম ১৮৮৬ সালে। তিনি ১৯২১-৩৬ পর্যন্ত আসাম প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ছিলেন। মৌলভীবাজার লোকাল বোর্ড এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সদস্য ছিলেন। তিনি ১৯৪৮ মৃত্যু বরণ করেন।
মুক্তার কাশীনাথ ঘোষ
মৌলভীবাজার জেলার আরও একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র কাশীনাথ ঘোষ। যার নামে প্রতিষ্টা হয় মৌলভীবাজারের ঐতিহ্যবাহি কাশিনাথ স্কুল। এ ছাড়াও তৎকালীন সময়ে কাশীনাথ তার এলাকার বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নে ও অসহায় মানুষের পাশে দাড়াতেন বলে জানাযায়। কাশিনাথ ঘোষ জেলার রাজনগর উপজেলার খলা গ্রাামে জন্মগ্রহন করেন। তিনি কোটের মোক্তার ছিলেন।
ডিএসপি গগন চন্দ্র সেনগুপ্ত
গগন চন্দ্র সেনগুপ্ত বৃটিশ আমলে আসাম বেঙ্গলের ডিএসপি ছিলেন। তিনি মৌলভীবাজার হাসপাতালসহ বহু সামাজিক কাজে বিশেষ অবদান রাখেন তাঁর জন্ম মৌলভীবাজার জেলার বারহাল গ্রাামে।
সিলেট বিভাগের প্রথম বৈজ্ঞানিক ড. সুরেন্দ্র নাথ ধর
মৌলভীবাজার জেলার বাউরভাগ গ্রামে কৃতি সন্তান ড. সুরেন্দ্র নাথ ধর ছিলেন সিলেট বিভাগের প্রথম বিজ্ঞানী। একই সাথে তিনি ছিলেন সিলেট বিভাগের প্রথম ডিএসপিও। ১৯১৫ সালে আসাম সরকারের গবেষণা বৃত্তি লাভ করেছিলেন তিনি। ১৯২০ সালে মাদ্রাজ কলেজে অধ্যাপনা নিয়ে গবেষণার কাজে নিয়োজিত হন। ১৮৯০ সালে মৌলভীবাজারের বাউরভাগ গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন এবং ১৯২৩ সালে ৯ ডিসেম্বর মাত্র ৩৪ বছর বয়সে পরলোক গমন করেন।
বিপ্লবী শ্রী শংকর শেখর ঘোষ
কমিউনিষ্ট আন্দোলন ও বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার খলাগাঁও গ্রামের বিপ্লবী শ্রী শংকর শেখর ঘোষ। তিনি ১৯৪২ সালে ভারত ছাড় আন্দোলনের মাধ্যমে কংগ্রেসে যোগদেন। দেশ বিভাগের পূর্বে তিনি রেলওয়ে শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন এবং সেক্রেটারী ছিলেন পশ্চিম বঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর। ছিলেন বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের মহানায়ক সূর্য সেনের অন্যতম সহযোগীও। এ ছাড়াও তিনি বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নেরও সভাপতি ছিলেন বলে জানাযায়। তিনি মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার খলাগাঁও গ্রামে বাংলা ২২ আশ্বিন ১৩২১ সালের জন্ম গ্রহন করেন এবং ১৯৮৯ সালের ৯ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।
কমরেড তারা মিয়া
কমরেড তারা মিয়া সিলেট জেলার অন্যতম কমিউনিষ্ট নেতা ছিলেন। তিনি ছিলেন কৃষক আন্দোলনেরও পুরধা নেতা। কৃষকদের মুক্তির আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি ১৯৫৯ সাল থেকে ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত কারাবরণ করেন। তিনি ১৯৬৬ থেকে আমৃত্যু কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, বৃটিশ আন্দোলন ও কাওয়াদিঘির হাওর আন্দোলন, গণভোট, ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৬ সালে পৃথিমপাশায় কৃষক বিদ্রোহে সিলেট অঞ্চলের নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধে দেশের ভিতর থেকে অংশগ্রহন করেন। তিনি ১৯৩২সালে রাজনগর উপজেলার নয়াগাঁও গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন।
বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেত্রী লীলা দত্ত
বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের পুরধা ব্যক্তিত্ব ও ভারত ছাড় আন্দোলনের নেত্রী লীলা দত্ত ১৯২৮ সালে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভূনবীর গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। তিনি ১৯৪২ সালে ভারত ছাড় আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়েন। এই আন্দোলনের কারনে ১৯৪৩ সালে তিনি পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। এক সময় ভারতীয় সি.পি. এম দলে যোগ দিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। তিনি কলকাতার ঐতিহ্যবাহী বেহালা বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ছিলেন। ১৯৮৫ সালের ৬ আগষ্ট তিনি মৃত্যু বরণ করেন বলে জানাযায়।
বিচারপতি গীতেশ রঞ্জন ভট্টাচার্য্য ও বিচারপতি সিকন্দর আলী
বিচারপতি গীতেশ রঞ্জন ভট্টাচার্য্য ও বিচারপতি সিকন্দর আলী সিলেটের দুই কৃতি সন্তান। বিচারপতি গীতেশ রঞ্জন ভট্টাচার্য্য মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার হাঁসখলা গ্রামে ১৯৩৮ সালে জন্ম গ্রহন করেন। তিনি কোলকাতা থেকে বিএল উপাধি নিয়ে কোলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। বিচারপতি সিকন্দর আলী ১৯০৬ সালে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার ইনাইনগর গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। তিনি সিলেট জজ কোর্টে আইন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। ১৯৩৪ সালে মুন্সেফ পদে ময়মনসিংহে যোগদেন৷ পরবর্তীতে ঢাকা হাইকোটের বিচারপতি নিযুক্ত হন। ১৯৬৬ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করনে।
মুক্তিযুদ্ধ সংগঠক ও রাষ্ট্রদুত আব্দুল মুন্তাকীম চৌধুরী
মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও রাষ্ট্রদুত আব্দুল মুন্তাকীম চৌধুরী বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের এক প্রাণ পুরুষ। তিনি ১৯৭০ সালে এম.এল.এ নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এই ব্যক্তিত্ব স্বাধীনতার পর জাপান ও জার্মানীতে রাষ্ট্রদুতের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুরের অধিবাসী । তার পিতা নাম তজম্মল আলী চৌধুরী।
উপমহাদেশে নারী জাগরণের পথিকৃৎ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী লীলা নাগ
লীলা নাগের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার পাঁচগাও গ্রামে। পিতার চাকুরীর সুত্রে তিনি ১৯০০ সালের ২ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন আসামের গোয়ালপাড়ায়। তার পিতা গিরীশচন্দ্র নাগ ছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট। তাদের পরিবার ছিল মৌলভীবাজারের অন্যতম শিক্ষিত ও সংস্কৃতমনা একটি পরিবার। ১৯১৬ সালে বাবা অবসর গ্রহণ করার পর তিনি স্থায়ীভাবে বাস করার জন্যে আসাম থেকে ঢাকায় চলে আসেন। ১৯০৫ সালে আসামের দেওগড় বিদ্যালয়ে লীলার শিক্ষাজীবন শুরু হয়। সেখানে দু’বছর অধ্যয়নের পর ভর্তি হন কলকাতার ব্রাহ্ম গার্লস স্কুলে। ১৯১১ সালে তিনি ভর্তি হন ঢাকার ইডেন হাইস্কুলে। ১৯১৭ সালে সেখান থেকে কৃতিত্বের সাথে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্যে কলকাতার বেথুন কলেজে ভর্তি হন। পড়াশোনায় তার গভীর আগ্রহ ছিল। ১৯১৯ সালে ২০ টাকা বৃত্তি পেয়ে আইএ পাশ করেন লীলা। এরপর ১৯২১ সালে বেথুন কলেজ থেকেই বি.এ পাশ করেন তিনি। পরীক্ষায় তিনি মেয়েদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং ‘পদ্মাবতী’ স্বর্ণপদক লাভ করেন। একই বছর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিষয়ে এম.এ করার জন্যে ভর্তি হন। শিক্ষা জীবন থেকেই তার মধ্যে বিপ্লবী চেতনার স্ফুরণ ঘটেছিল। কলেজে অধ্যয়নকালীন সময়ে তিনি বড়লাটের পতœীকে নতজানু হয়ে অভিবাদন জানানোর প্রথা বাতিল করার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ১৯২৫ সালে শ্রীসঙ্ঘ নামে অভিহিত একটি বিপ্লবী দলের সদস্য হন তিনি। ১৯২৭-২৮ সালের বিক্ষুব্ধ বছরগুলিতে, যখন নারীরা শারীরিক আক্রমণের লক্ষ্যে পরিণত হয়, তখন লীলা নাগ মহিলা আত্মরক্ষা ফান্ড নামে একটি ফান্ড গঠন করেন। সাধারণ জনতার পর্যায়ে নারী শিক্ষা বিস্তারের জন্য তিনি গণ শিক্ষা পরিষদ নামে পরিচিত একটি প্রতিষ্ঠানও গঠন করেন। তিনি ছিলেন প্রভাবশালী সাময়িকি পত্রিকা জয়শ্রীর সম্পাদক। বিপ্লবী আন্দোলন করতে গিয়ে একাধিকবার তাকে কারাবরণ করতে হয়। ১৯৩৯ সালে লীলা নাগ অনিল রায়কে বিয়ে করেন। এই দম্পতি নেতাজী সুভাষচন্দ্র্র বসুর দলে যোগদান করে ফরওয়ার্ড ব্লক গঠন করেন। ১৯৪০ সালের জুলাই মাসে কলকাতার হলওয়েল মনুমেন্টের বাহ্যিক আকৃতি নষ্ট করার দায়ে লীলা নাগ ও অনিল রায়কে অভিযুক্ত করা হয় এবং পুনরায় তাঁদেরকে কারাদন্ড দেওয়া হয় এবং ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত আটক রাখা হয়। কারামুক্তির পর তাঁকে নেতাজীর দলের সাপ্তাহিক মুখপত্র ফরওয়ার্ড ব্লক-এর সম্পাদনার দায়িত্বভার দেয়া হয়। ১৯৪৬ সালে তিনি বাংলা থেকে ভারতীয় গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং ভারতীয় শাসনতন্ত্রের খসড়া তৈরিতে অবদান রাখেন। ১৯৪৬ সালের কলকাতা দাঙ্গা ও নোয়াখালী দাঙ্গার পর তিনি নোয়াখালীতে দাঙ্গায় ক্ষতি গ্রস্ত লোকজনের ত্রাণকার্যে অংশগ্রহণ করেন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত নারী জাগরণ ও বিপ্লবী আন্দোলন করে যান।
গণতন্ত্রসেবী মো. ইলিয়াছ
পঞ্চাশের দশক থেকে নব্বই এর দশক পর্যন্ত মানুষটি ছিলেন শ্রীমঙ্গল কমলগঞ্জ তথা মৌলভীবাজারের মানুষের কাছে প্রাণের চেয়ে প্রিয়। ছিলেন মানুষের মুক্তির সংগ্রামের এক বিপ্লবী মহানায়ক। তাঁর জীবনার্দশন যে কোনো মানুষকে আর্দশ রাজনৈতিক নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পথ দেখায়। তাঁর মৃত্যুর সময় আমি দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় শেণীতে পড়তাম। ছোটবেলা থেকেই জেনে আসছি সাধারন মানুষের প্রাণের সাথে মেশানো অবিচ্ছিন্ন এক প্রাণ ছিলেন মো. ইলিয়াছ। তাঁর আর্দশের কথা এতো শুনেছি যে, তাঁর প্রতি এক দায়বদ্ধতার জন্ম দেয়। তাকে বিষদ ভাবে জানার তেষ্টা জাগে। যতটুকু জেনেছি, তাতে যে টুকু তেষ্টা মিটেছে, মনে হয়েছে সমুদ্রসম জলরাশি থেকে মাত্র এক গ্লাস জল পান করেছি। মনে হয়েছে মো. ইলিয়াছের জীবনাবলী সংরক্ষিত করে পুস্তকারে লিপিবদ্ধ করলে তা হবে আজকের দিনে ক্ষমতা ও স্বার্থ পাগল নেতাদের জন্য লজ্জা আর উদিয়মান রাজনীতিকদের পাঠশালা। তিনি ছিলেন সত্যিকারের রাজনীতিবিদ, শিক্ষানুরাগী, সমাজ সেবক, সংস্কৃতি প্রেমী, ট্রেডইউনিষ্ট, গরীবের বন্ধু, আত্মত্যাগী, প্রচার বিমূখ ও নির্লোভ মানুষ। অন্যদিকে তিনি একজন ভাষা সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও মুক্তিযোদ্ধা। মানুষের ভালোবাসায় তিনি সত্তরের এম এন এ, পরবর্তীতে পর পর তিনবার ১৯৭৩, ১৯৭৯ ও ১৯৮৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ৫৪ এর যুক্ত ফন্ট, ৬৬ এর ৬ দফা, ৬৯ এর গণ অভ্যুখান, ৭১ এর মহান স্বাধীনতার সংগ্রাম, ৭২ এ দেশ পূর্ণগঠন, ৭৫ এ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হত্যার প্রতিবাদ, স্বৈরশাষক বিরোধী আন্দোলনসহ দেশের প্রত্যেকটি ক্রান্তি লগ্নে লড়ে গেছেন প্রাণপন। মোহাম্মদ ইলিয়াছের ১লা অক্টোবর ১৯২৯ সালে বর্তমান মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার কুশাল পুর গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন । বাবার নাম মো. তাহির চৌধুরী ও মায়ের নাম মোছাম্মৎ জোবেদা খাতুন চৌধুরী। মাত্র ৫৮ বছর বয়সে ১৯৮৭ সালের ২১ নভেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
ডা: কমরেড সূর্যমণি দেব
কৃষক আন্দোলনের পথিকৃত ডা: কমরেড সূর্যমণি দেব। শুধুমাত্র কৃষক আন্দোলনের কারনে ১৯৩০ সাল থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৩৬ বছরে ১০ থেকে ১২ বার বাংলার সূর্যসন্তান সূর্যমণিকে জেলে যেতে হয়েছে। জেল খেটেছেন ২২ দিন থেকে তিন বছরেরও বেশি পর্যন্ত। দশম শ্রেণীর ছাত্র থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত প্রায় ৭০ বছর কাজ করেছেন শুধু মানুষের জন্য। কৃষক আন্দোলনে তিনি এতোটাই স্বোচ্চার ছিলেন যে বহুবার পায়ে হেঁটে সিলেট থেকে শিলং কৃষক আন্দোলনে যোগ দেন। তার বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের অবদান আমাদের বিবেককে জাগ্রত করে। জীবন যৌবনের শুরুর দিকে তিনি কংগ্রেসের রাজনীতির সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে পড়েন। পরে তিনি কমিউনিস্ট পাটিতে যোগ দেন। সে সময় বিট্রিশ বিরোধী আন্দোলনের তুখোড় নেতা ছিলেন। বিভিন্ন সময় প্রতিবাদ করে একাধিকবার জেল ও সাজা ভোগ করতে হয়েছে। দেশ ভাগের পর ১৯৪৯ পাকিন্তান সরকার তাঁকে গ্রেপ্তার করে। সে সময় ভাষা আন্দোলনেও তিনি জোরালো ভূমিকা রাখেন। ১৯৫৩ সালে আবারও গ্রেপ্তার হন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি সহায়ক ভুমিকা পালন করেন। শ্রীমঙ্গলে পাক বাহিনীর মর্টার সেলে মানুষজন আহত হলে তিনি আহতদের পাশে দাড়ান। পরবর্তীতে ভারতে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থেকে শরনার্থী ক্যাম্পের মানুষের পাশে দাড়ান। অকুতোভয় সর্বত্যাগী এই বীর ১৯৯৯ সালের ৪ মার্চ শ্রীমঙ্গল রামকৃষ্ণ মিশনেই দেহ ত্যাগ করেন এবং আমাদের জন্য রেখে যান তার বিশাল আলোময় জীবনাচল।
বৃহত্তর সিলেটের উন্নয়নের রূপকার অর্থনীতিবিদ এম সাইফুর রহমান
বৃহত্তর সিলেটের উন্নয়নের রূপকার খ্যাত কিংবদন্তী নেতা, ভাষা সৈনিক, অর্থনীতিবিদ মরহুম এম সাইফুর রহমানের রয়েছে অনেক কীর্তি। ১৯৭৭ সালে সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা হিসেবে রাজনীতির ময়দানে আসেন সাইফুর রহমান। পরে দলে যোগদান করেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জিয়াউর রহমানের আমলে ও পরে রাষ্ট্রপতি সাত্তারের আমলে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে বিএনপি আমলে টেকনোক্রেট কৌটায় ফের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ২০০১ সালে জোট সরকারে আমলেও অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন বর্ষীয়ান এ অর্থনীতিবিদ। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ এর চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। সাইফুর রহমান পাকভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সময় অর্থমন্ত্রী থাকার বিরল নজির সৃষ্টি করেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১১ বার জাতীয় বাজেট পেশ করেন এ অর্থনীতিবিদ। এম সাইফুর রহমানের ডাক নাম ছিল বস্তু মিয়া। মৌলভীবাজারের বাহারমর্দন গ্রামে ১৯৩২ সালের ৬ অক্টোবর তার জন্ম । পিতা আব্দুর রহমান ও মা তালেবুন নেছার তিন পুত্রের মধ্যে সাইফুর রহমান ছিলেন সবার বড়। ভাষা আন্দোলনে অনন্য ভুমিকার জন্য ২০০৫ সালে তিনি একুশে পদক লাভ করেন।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলী
মৌলভীবাজার রাজনগরের মাটি ও মানুষের প্রাণ প্রিয় নেতা সৈয়দ মহসিন আলীর জন্ম ১৯৪৮ সালের ১২ ডিসেম্বর মৌলভীবাজারে এক সম্ভান্ত মুসলিম পরিবারে। তাঁর পিতার নাম সৈয়দ আশরাফ আলী এবং মাতার নাম আছকিরুন্নেছা খানম। ছাত্রলীগের একজন সদস্য হিসেবে ছাত্রজীবনেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। ১৯৬৪ সালে তিনি ছিলেন সিলেট বেতার কেন্দ্রের একজন নিয়মিত শিল্পী এবং বাংলাদেশ টাইমসের মৌলভীবাজার প্রতিনিধি ছিলেন। সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে ৪ নং সেক্টরের অধীনে গেরিলা যুদ্ধ করেন। পাশাপাশি জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সদস্যও ছিলেন। মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ছিলেন দীর্ঘদিন। ছিলেন রেডক্রসের সেক্রেটারি। তিনবার পৌরসভা চেয়ারম্যানও ছিলেন। সৈয়দ মহসীন আলী ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-রাজনগর ৩ আসনে বিএনপির শক্তিশালী নেতা সাবেক অর্থমন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমানকে ৩৬ হাজার ভোটে পরাজিত করে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচত হন। ২০১৫ সালে সৈয়দ মহসিন আলী ভারতের আচার্য দীনেশ চন্দ্র সেন রিসার্চ সোসাইটির কাছ থেকে আচার্য দীনেশ চন্দ্র সেন স্মৃতি স্বর্ণপদক-২০১৪ লাভ করেন এবং হ্যালো কলকাতা নামে কলকাতাভিত্তিক একটি সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠান তাঁকে নেহেরু সাম্য সম্মাননা-২০১৪ পুরস্কারে ভূষিত করে। ১৯৯৮ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনি মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় স¤পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৩৭-মৌলভীবাজার-৩ আসন থেকে পুনরায় জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১২ জানুয়ারি ২০১৪ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
এই গুনি ব্যাক্তিদের সম্পর্কে আরো ব্যপক ভাবে জানতে হলে আমার সংগৃহিতস্থল মৌলভীবাজার ও সিলেটের বিভিন্ন ঐতিহাসিক বই, মৌলভীবাজার জেলার ওয়েবসাইট ও গুগল চেক করে জানা যেতে পারে। এ ছাড়াও এখনও বেশ কিছু প্রবীণ শিক্ষক ও লেখক তাদের সর্ম্পকে অনেক কিছু জানেন।
মন্তব্য করুন